সারাদেশ

গুম ও নিহত নেতাকর্মীদের পরিবারকে কৃষকদলের উপহার

বিভিন্ন সময়ে নিখোঁজ ও নিহত নেতাকর্মীদের পরিবারকে নিয়ে ইফতার করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের নেতাকর্মীরা।
শনিবার ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে এ ইফতার আয়োজনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের পক্ষ থেকে ৫০ পরিবারের সদস্যদের ঈদ উপহার দেওয়া হয়।

ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘গুম ও খুনের’ শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তাহসিনা রুশদির লুনা, আফরোজা ইসলাম আঁখি, মুনিয়া আখতার, সাফা, উম্মে হাবিবা মিম অশ্রুসজল কণ্ঠে তাদের পরিবারের দুর্দশা, ভোগান্তি ও বেদনার চিত্র তুলে ধরেন।

বিএনপি মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ ২০ দলীয় জোটের নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, “জাতিসংঘের যে চার্টার সেই চার্টারে এনফোর্স ডিজএপিয়ারেন্সকে বলা হয় চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধ। এ কাজ আওয়ামী লীগ সরকার গত কয়েকবছর ধরে করেছে এবং এই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তারা রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, গণতন্ত্রের জন্য যারা সংগ্রাম-লড়াই করছেন তাদেরকে গুম করেছে, খুন করেছে, হত্যা করেছে।“

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে দেখিয়ে ফখরুল বলেন, “ইলিয়াস আলী প্রায় ১০ বছর আমাদের মাঝ থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। এখানে আরও অনেকে আছে ছোট ছোট বাচ্চা বাচ্চা মেয়ে তারা গত ৭/৮/১০ বছর তাদের বাবাকে খুঁজছে। এ রকম প্রায় ৬শ পরিবার আছে যে পরিবারগুলো তাদের পুত্রকে, তাদের স্বামীকে অথবা তাদের পিতাকে খুঁজছে কিন্তু তাদেরকে তারা পাচ্ছে না।“

বিএনপি মহাসচিবের দাবি, “এটা প্রমানিত সত্য যে, এদেরকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং তারা গুম হয়ে আছে। যেই কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা র‌্যাবের ওপর এসেছে এবং অনেক কর্মকর্তার উপরে এসেছে।”

তিনি বলেন, “আজকে এই রমজানের দিনে এই কথাগুলো বলতে আমাদের ইচ্ছা হয় না তারপরও বলতে হয় আমরা যদি এই সরকারকে সরাতে না পারি, আওয়ামী লীগকে যদি সরাতে না পারি তাহলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না।“

কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় ইফতার অনুষ্ঠানে বিএনপির আবদুল্লাহ আল নোমান, নিতাই রায় চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, মশিউর রহমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ অঙ্গ সংগঠন ও কৃষক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button